কিভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হবেন

How To Become A Successful Freelancer

কাজকে ভালবাসতে হবে অর্থকে নয়

ফ্রিল্যান্সিং এর সফলতার জন্য প্রথমে অর্থের লোভ সংবরণ করে কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে । দক্ষ লোকদের কদর যেমন সব জায়গাতেই তেমনি ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরেও । এজন্য সবার আগে বিভিন্ন রিসোর্স থেকে কাজ শিখে সেগুলোর বাস্তব ভিত্তিক কাজ করে দক্ষতা অর্জন করলেই ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজের চাহিদা এবং মূল্য দুটোই বৃদ্ধি পাবে । এইরকম চাহিদাপূর্ণ অবস্থানে আসার জন্য অবশ্যই কিছুটা সময় দিতে হবে । একটা কথা মনে রাখবেন, অদক্ষ ব্যক্তিদের সব সময় অর্থের পিছনে দৌড়াতে হয় কিন্তু দক্ষ ব্যক্তিদের পেছনে অর্থ দৌড়ায় ।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে ফুলটাইম হিসাবে নিতে হবে

এখন সময় এসেছে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে পার্ট টাইম না ভেবে ফুলটাইম হিসেবে নেওয়ার । তাহলে যারা ফ্রিল্যান্সিংকে নিজের প্রধান পেশা হিসেবে নিতে চায় তারা আরও বেশি সচেতন হবে এবং দক্ষ হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হবে । তখন বিদেশি ক্লায়েন্ট/বায়াররা এ দেশের ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিতে আরো বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন ।

ফ্রিল্যান্সিংকে যদি পার্টটাইম কাজ হিসেবে মনে করেন, তবে দিনের সময়ের সবচেয়ে বেশি সময় ফ্রিল্যান্সিং এর জন্যে বরাদ্দ রাখতে পারবেন না । সেজন্য দক্ষতা অর্জন যেমন কঠিন হবে, তেমনি বেশি কাজ ও করতে পারবেন না । যখন ফ্রিল্যান্সিংকে ফুলটাইম পেশা হিসাবে ভাবতে শুরু করবেন, তখন আরো বেশি মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা ঘটবে । বৈদেশিক মুদ্রা আরো বেশি দেশে আসবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে বড় সুফল বয়ে আনবে ।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে ফুলটাইম পেশা হিসাবে ভেবে ক্যারিয়ার শুরু করলে ফ্রিল্যান্সিং শুধু অনলাইন আয়ের এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ধীরে ধীরে এটি তখন একটি সম্মানজনক ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হওয়া শুরু হবে । তখন প্রত্যেকের মধ্যে আরো বেশি ভালো করার ব্যাপারে উৎসাহ উদ্দীপনা বাড়বে ।

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি

একটি জরিপে দেখা গেছে যে, যাদের মধ্যে যোগাযোগের দক্ষতা ভালো তারা অন্য সব জায়গার মতো ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রেও সব থেকে বেশি সফল হয়ে থাকেন । যোগাযোগের দক্ষতা বলতে বোঝায় ক্লায়েন্ট/বায়ারের বক্তব্য সঠিকভাবে বুঝতে পারা, ক্লায়েন্ট/বায়ারকে নিজের বক্তব্য সঠিক ভাবে বোঝাতে পারা এবং সেইসাথে ক্লায়েন্ট/বায়ারকে কনভেন্স করতে পারাটা হচ্ছে যোগাযোগের মৌলিক দক্ষতা ।

যোগাযোগের এই মৌলিক দক্ষতা থাকলে ক্লায়েন্ট/বায়ার কাজ দিয়ে স্বস্তি পাবেন । আর সেজন্য ক্লায়েন্ট/বায়ার একবার কাজ করলে পরের কাজটির ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব চেষ্টা করেন, ওই একই ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে কাজটি করানোর জন্য । কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে সাথে যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে । তাহলে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে খুব দ্রুত সফল হওয়া যাবে ।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতার জন্য ইংরেজি জানতে হবে

ইংরেজি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাষা । আর সে কারণেই যেকোনো ধরনের কাজের ক্লায়েন্ট/বায়ারের সাথে যোগাযোগের মূল ভাষা হচ্ছে ইংরেজি । যিনি যত ভালো ইংরেজি পারবেন, তিনি তত বেশি ভালোভাবে ক্লায়েন্ট/বায়ারের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন । কারণ ক্লায়েন্ট/বায়ারের নির্দেশনা বুঝতে তার অনেক বেশি সহজ হয় ।

ক্লায়েন্ট/বায়ারও যাকে দিয়ে কাজ করাবেন, তার কথা জড়তা তাছাড়া বুঝতে পারবেন । ফ্রিল্যান্সারদের সাথে ক্লায়েন্ট/বায়ার যোগাযোগের বিষয়ে যত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, একজন ফ্রিল্যান্সারের ক্ষেত্রে তার ক্লায়েন্ট/বায়ারের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজের সম্পর্ক বজায় থাকবে । বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, শুধুমাত্র ভাষাগত সমস্যার কারণে কাজ দিয়ে সন্তুষ্ট করার পরও ক্লায়েন্ট/বায়ার ওই ফ্রিল্যান্সারের কাছে আর নতুন কোন কাজ নিয়ে ফিরে আসেন না । একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য তাই নিজেকে ইংরেজিতে ধীরে ধীরে দক্ষ করে তোলার দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে ।

সফল হওয়ার জন্য কাজে দক্ষ হতে হবে

যদি একজন ফ্রিল্যান্সারের কাছে একটি কাজের বাইরে অন্য আরও কাজের সাপোর্ট পাওয়া যায়, তাহলে তার সাথে ক্লায়েন্ট/বায়ারের দীর্ঘদিনের জন্য সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । সেজন্য সব কাজেই দক্ষতা তৈরি করতে পারলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট/বায়ারের কাছে নিজের চাহিদা বৃদ্ধি করা যায় । এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, সব কাজ সমান দক্ষতা অর্জন করাটা অনেক বেশি কষ্টকর । যেটা করতে হবে, কোন একটিতে ভালো দক্ষ হতে হবে এবং বাকিগুলোতে মোটামুটি ধারনা থাকলেই চলবে ।

কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির চাহিদা থাকতে হবে

ফ্রিল্যান্সার হিসাবে ক্লায়েন্ট/বায়ারের কাছে নিজের চাহিদা ধরে রাখার জন্য সব সময় নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে । মনে করুন, যদি কেউ এসইও- এর কাজের মাধ্যমে আউটসোর্সিং করে থাকেন, তাহলে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় এসইও সম্পর্কিত লেখা পাওয়া যায়, এরকম ব্লগগুলির পোস্ট নিয়মিত পড়া উচিত । যত নতুন আপডেট আসছে, সবকিছু জেনে সেগুলোতে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে ।

গুগল এর উপর নির্ভরশীলতা ও সফলতার সম্ভাবনা

কোন সমস্যায় পড়লে সে সম্পর্কে জানার জন্য কোন ব্যক্তির কাছে প্রশ্ন না করে, সে বিষয়ে গুগলকে প্রশ্ন করা উচিত । গুগল এর উপর এ নির্ভরশীলতা জানার পরিধি অনেক বাড়িয়ে দেবে । গুগলে খোঁজ করলে অনেক কিছুর উত্তর পাওয়া যাবে, যা চিন্তাশক্তিকে বাড়িয়ে তুলবে । ফ্রিল্যান্সিং এর সফলতার জন্য শুরু থেকেই গুগলের উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে ।

অনলাইনে নির্ভরশীলতাই ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতা

অনলাইনের ওপর জীবনকে যত বেশি নির্ভরশীল করতে পারবেন ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতার সম্ভবনা তত বেশি । ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলেই কাজ পাওয়া যায় না । এরকম সফলতার জন্য শুরুর দিকে কষ্ট অনেক বেশি করতে হয় । আর এজন্য অনলাইনে দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করা উচিত । শুধুমাত্র ফেসবুকে সময় ব্যয় না করে, বিভিন্ন ব্লগ, ফোরাম ভিডিও কিংবা অনলাইনের অন্যান্য জায়গা গুলোতে দিনের বড় একটা সময় ব্যয় করার অভ্যাস নিজের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে । এসব জায়গায় সারা বিশ্বের বড় বড় ফ্রিল্যান্সার তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করেন । এগুলো সত্যিকার অর্থে অনেক কিছু শিখতে এবং সবকিছুর বিষয়ে আরো অ্যাডভান্স হতে সহযোগিতা করে ।

ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি দরকার

যে কোনো কাজের সফলতার জন্য যেমন সবার প্রথমে দরকার ইচ্ছাশক্তি, ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টা তদ্রুপ । ফ্রিল্যান্সিংয়ের সফল হওয়ার ব্যাপারে যত প্রস্তুতিমূলক পরিশ্রম করা দরকার, সে সব কিছু করার আগ্রহ থাকতে হবে । সুতরাং কারো কথা শুনে হালকা ভাবে লক্ষ্য নিয়ে নামলে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৯৫ শতাংশ । কিন্তু যদি নিজের তীব্র ইচ্ছা এবং একাগ্রতা থাকে তাহলেই ফ্রীল্যান্সিংয়ে সফল হওয়া যাবে ।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে ধৈর্য্য গুরুত্বপূর্ণ

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে ধৈর্য শক্তি বাড়িয়ে নেওয়া উচিত । কাজ শিখতেও ধৈর্যের প্রয়োজন । শুরুতে কাজ পাওয়ার জন্য বহু দিন ধৈর্য সহকারে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় । এমনও হতে পারে যে, কাজ শেখার পর প্রথম কাজের অর্ডার পেতে এক বছরও সময় লেগে যেতে পারে । কিন্তু তারপরও ধৈর্য হারালে চলবে না । চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, নিজেকে দক্ষ করতে হবে, ক্লায়েন্টের কাছে কাজ চাওয়ার ধরনের পরিবর্তন এনে দেখা যেতে পারে । হতাশ না হয়ে কাজ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে ।

সফল ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে উপরের বিষয়গুলো নিজের মধ্যে রপ্ত করার চেষ্টা করতে হবে । আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে জিততে হলে নিজের মধ্যে বিশেষ কিছু থাকতেই হবে । কাজের দক্ষতার পাশাপাশি অধ্যবসায়, ধৈর্য এবং নতুন কিছু শেখার নেশা আপনাকে পৌঁছে দেবে সফলদের কাতারে ।



Post a Comment (0)
Previous Post Next Post